Transcript · Bangla

Dewcse

যে তুমি যদি বাসায় তোমার আম্মুকে বলো বা প্রিন্সিপালকে বলো বা

কাউকে জানাও, তোমার গার্ডিয়ানদেরকে জানাও আমি কিন্তু

তোমাকে

মেরে ফেলব।

রুমি ভাই

বাচ্চার মাকে ফোন দিচ্ছেন। তিনি আরও বিস্তারিত বলতে পারবেন সবকিছু।

আমরা তার মায়ের মুখেই শুনি যে আসলে কী হয়েছিল। আমি এখন চ্যানেলে আছি

একদম অন ক্যামেরায়। উনিশ তারিখের পুরো

কাহিনীটা দর্শকরা আসলে জানতে চাচ্ছে পুরো ঘটনাটা

কী ঘটেছে।

ঠিক আছে, আমি লাউড স্পিকারে দিলাম, ওকে?

আসসালামু আলাইকুম। আমি মালিহা রা--

যে উনিশ তারিখ সোমবার আমার মেয়েকে

আটটায়, সকাল আটটায় মাদ্রাসায় পাঠাই।

তো ওদের ক্লাস সাড়ে দশটা পর্যন্ত হয়। সাড়ে দশটা থেকে বারোটা

পর্যন্ত স্পেশাল আরবি ক্লাস হয়, যেটা ওই মুসলিম স্যার কোরআন।

তো বারোটায় ছুটি হওয়ার পর সে যখন বাসায় আসে, বাসায়

আসার পর আমি খেয়াল করি যে তার মনটা খারাপ।

সে একটু কান্না কান্না ভাব আর একটু ভয় নিয়ে আছে। তো আমি ওকে

জিজ্ঞেস করলাম যে, "মা তুমি এরকম ভয় পেয়ে আছো

কেন? কী হয়েছে আমাকে খুলে বলো।" তো ও আমাকে বলতে

চাচ্ছিল না। শুধু ভয়ে বলতেছিল যে বারবার, "আম্মু

আমি বললে স্যার আমাকে মারবে, স্যার আমাকে মেরে ফেলবে।"

"কি, কি বলতেছ আমাকে একটু খুলে বলো।" পরে বলছে,

"স্যার আমাকে আদর

করছে।" যে আদর করছে মানে? মানে কেমন আদর?

সে আমাকে বলতে-- আমি তাকে বাসায় শিখিয়েছিলাম গুড টাচ এন্ড

ব্যাড টাচ।

হু হু।

তো সে আমাকে বলতেছে যে, "আম্মু আমাকে না স্যার

ব্যাড টাচ করেছে।" "স্যার ব্যাড টাচ, মানে কোথায় কোথায় তোমাকে ব্যাড টাচ

করেছে?"

তো সে আমাকে বলল যে, "আম্মু আমাকে এই যে গালে, কপালে,"

সে আমাকে দেখিয়েছে মানে বিভিন্ন জায়গায়, মানে এটা পুরোটাই ব্যাড টাচ।

হু হু।

আমি বললাম, "এটা কোথায় হয়েছে?" ও মাদ্রাসায় তো

সিসিটিভি ক্যামেরা আছে রুমের

ভিতরে। তো এটা তো করা সম্ভব ছিল না

একজন স্যারের। তো বলতেছে, "আম্মু স্যার আমাকে বলছে সিঁড়িতে

সিসিটিভি ক্যামেরা নাই।" আমরা যখন ক্লাস শেষে সবাই বের হয়ে যাচ্ছিলাম,

বারোটায় ছুটির পর, ছুটির পরপর যখন তারা উপর থেকে নেমে আসে

তখন সব ছাত্রছাত্রীরা নিচে নেমে যাওয়ার পর স্যার,

মুসলিম স্যার ওর হাতটা টেনে ধরে সিঁড়ির মধ্যে।

সিঁড়িতে কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরা নাই ওই মাদ্রাসায়।

হু।

তো স্যার নিজেই বলে যে, "দেখো তুমি যদি এই

কথাটা বাসায় গিয়ে কিন্তু বললেও কিন্তু কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ সিঁড়িতে কোন

সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নাই। এটা কোন সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখাও যাবে না। আমি যে

তোমাকে ধরে আছি তাই বাসায় কিন্তু বলা যাবে না। বললেও কোন লাভ হবে

না।" তো সিঁড়িতে ওকে হাতটা টেনে ধরে রাখে। সব ছাত্রছাত্রীরা চলে

যায়। তো সিঁড়িতে ওকে জাপটে ধরে, জাপটে ধরে ওকে মানে

ব্যাড টাচ করে। ব্যাড টাচ করে বলে যে, "তুমি যদি

বাসায় তোমার আম্মুকে বলো বা প্রিন্সিপালকে বলো বা কাউকে

জানাও, তোমার গার্ডিয়ানদেরকে জানাও আমি কিন্তু

তোমাকে মেরে

ফেলব।

তুমি এই কথা কাউকে বলতে পারবা না। আর তুমি বললেও কোন লাভ হবে

না। কারণ কোন সিসিটিভি ক্যামেরা নাই কিন্তু সিঁড়িতে।"

তারপরও আমার মেয়ে বাসায় আসে একটু ভয় নিয়ে। তারপর সে আমাকে বলে যে,

"আম্মু স্যার আমাকে এরকম ব্যাড টাচ করছে। বলছে যে কাউকে

বলা যাবে না। বললে আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি কিন্তু কাউকে বইলো না আম্মু।" মানে আমার তো

ছোট মেয়ে, সে বলতেছে, "আম্মু কাউকে বইলো না,

স্যার আমাকে মেরে ফেলবে।"

পরে এই ঘটনা জানার পর আমি ওখানকার

মাদ্রাসারই একজন ম্যাডামকে প্রথমে আমি জানাই এই বিষয়টা। উনার নাম হচ্ছে

লুনা ম্যাডাম।

উনাকে জানানোর পর উনি আমাকে বলল যে,

"দেখেন এটা তো প্রথমবার ছিল। আমরা স্যারকে

আরেকটা সুযোগ দেই। আমরা তবুও আমরা দেখব যে

উনার স্যারকে জানাবো যেন স্যার এরকম না করে। তবুও আমরা উনাকে আরেকটা সুযোগ

দেই।" পরে আমি মা হিসেবে উনার এই কথা আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি

যে

আরেকটা সুযোগ কিভাবে দেওয়া যায় একজন অন্যায়কারীকে। তো আমি সাথে সাথে

ভাইস প্রিন্সিপাল তালাউদ্দীন সাকিব উনাকে ফোন

দেই যে স্যার তখন তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না। তিনি

নাকি ছুটিতে ছিলেন।

উনাকে আমি জানাই যে আমার মেয়ের সাথে এরকম এরকম হয়েছে। মুসলিম স্যার

এরকম এরকম ব্যাড টাচ করেছে। তো উনি বলল যে আমরা

তাৎক্ষণিক পরের দিনই, বিশ তারিখে আমরা সিঁড়িতেও সিসিটিভি

ক্যামেরা লাগিয়ে

দিব এবং সার্বক্ষণিক একজন মহিলা শিক্ষক

নিয়োজিত থাকবে।

যখন

একজন পুরুষ শিক্ষক যখন ক্লাস নিবে তখন সাথে সাথে পাশাপাশি একজন মহিলা শিক্ষকও

থাকবে।

উনার কথায় আমি আশ্বস্ত হয়ে

বিশ তারিখেও আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠাই। পাঠানোর পরে সেই

দিনও মুসলিম স্যার একাই ক্লাস করে এবং সেই সুযোগে উনি উনাকে

সেই দিনও আমার মেয়েকে বলে যে, "তোমাকে আমার পছন্দ।" সেই সুযোগে, "তোমাকে

আমার পছন্দ।

তোমরা বাসায়, তোমাদের বাসার নাম্বার কত?" মানে আমার

মেয়ের কাছ থেকে জিজ্ঞেস

করে এটা জেনে নিয়েছে।

তারপর জানার পর

ওইদিনই, আমি একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। ওইদিনই

সকালবেলায় আমার

পরিচালক আলমাস হোসেনকে ওর নানাভাই জানিয়েছে

ঘটনাটা যে আমার-

আলমাস মানে হচ্ছে প্রিন্সিপাল।

প্রিন্সিপাল,

প্রিন্সিপাল আলমাস হোসেনকে-

আলমাস

হোসেন।

বিশ তারিখ সকালবেলা প্রিন্সিপালকে জানানো হয়েছে ঘটনাটা। উনি বলেছে

যে আমরা এটার ব্যবস্থা নিব।

তো সেই,

সেই দিনও, বিশ তারিখ সেই দিনও উনি ক্লাস নিয়েছে,

মুসলিম স্যার ক্লাস নিয়েছে।

ক্লাস শেষে ওই ক্লাসের মাঝখানেই উনি আমার মেয়েকে বলছে যে দেখো

তোমাকে আমার পছন্দ।

তারপর সেই দিনও উনি উনার সাথে একটু অসৎ আচরণ করার চেষ্টা করেছে আমার মেয়ের সাথে

কিন্তু করতে পারেনি। আর

আমার মেয়ে আসার পরপরই উনি আমাদের বাসায় চলে এসেছে।

আর তখন আমি আমার সন্তানদেরকে নিয়ে আমি বাসায় একা ছিলাম। কোন পুরুষ মানুষ,

কোন গার্ডিয়ান ছিল না বাসায়। তো উনি আমার বাসার সামনে এসে

বারবার করে দরজা ধাক্কাচ্ছিল, ইয়ে করতেছিল যে, "আপনার বাসার দরজা খুলেন,

আপনার

সাথে আমার কথা আছে।"

আচ্ছা উনি যে বাসায় আসছে এটার কি কোন এভিডেন্স আছে?

হ্যাঁ, হ্যাঁ।

কি এভিডেন্স?

এভিডেন্স আছে। উনি আমাকে টেক্সট করেছে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে

টেক্সট করেছে যে, "আপু একটু দরজাটা খুলেন, আপনার সাথে আমার কথা আছে।"

তারপর উনি বারবার দরজাটা ধাক্কা ছিল। আমি ওনার সাথে আর কথা বলিনি।

আমি শুধু বলেছি আপনার সাথে আমি কোন কথা বলতে পারব না। বাচ্চার বাবা কথা বলবে এই

বিষয়ে আপনার সাথে।

তারপরই আমি বাচ্চার বাবাকে জানাই ঘটনাটা।

তো উনারা সবাই আমার বাচ্চার সাথে অন্যায় করেছে। উনারা অস্বীকার করেছে।

আমি আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটার

প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য আমি বিচার চাই, সুষ্ঠু বিচার চাই।

তাজ ভাই আপনি কোন প্রশ্ন করবেন আর?

আমি কোন question করব না। কারণ আমি বাকিটা পুরোটাই শুনেছি রুমি ভাইয়ের

কাছে এবং আমরা চেষ্টা করব যে আপনার বাচ্চা যেন বিচারটা পায় এবং আমরা চেষ্টা

করব যে এই রকম যারা teacher আছে তারা যেন সারা বাংলাদেশে কোথাও

শিক্ষকতা করার গ্রহণযোগ্যতায় হারিয়ে ফেলে। তারা যেন আর শিক্ষকতা করতে না

পারে। আমি এক্ষেত্রে রুমি ভাইকে পুরোপুরি support করছি এবং আমার যতটুকু

connection আছে আমি সেটা দিয়ে help করার চেষ্টা করব উনাকে। আশা করি

সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং আপনি আপনার মেয়ের যত্ন নিন আপাতত। আপনাকে

আসলে সমবেদনা দেওয়ারও কিছু নাই। কারণ একটা বাচ্চার উপর দিয়ে যেই traumaটা

যায় এরকম situation হলে সেটাতে আসলে কিছু বলা যায় না এখন। এখন আপনি জাস্ট আপনার

বাচ্চাকে এইটা থেকে ভুলে নেওয়ার জন্য তাকে কোন একটা activity দেন। যেন

সে এই রকম situation থেকে পুরোটাই বেরিয়ে আসতে পারে। যেমন তাকে play zone এ নিয়ে

যেতে পারেন বা swimming এ নিয়ে যেতে পারেন বা কোন park এ নিয়ে যেতে পারেন বা কোথাও

একটা ঘোরাতে নিয়ে যান। যেন সে বাচ্চাটা এই জিনিসগুলোকে ভুলে যায়। এবং বাকিটা

আমরা ভিতরে ভিতরে আমরা যতটা আমরা বড়রা যারা আছি তারা চেষ্টা করব

যে তার যেন তার সাথে যেটা হয়েছে তাকে যে trauma শিকার হয়েছে এবং সারা

বাংলাদেশ জুড়ে অনেক বাচ্চাই হচ্ছে। আমরা আসলে কি আমি মূলত সেইটা নিয়ে কাজ করতে চাই

যে সারা বাংলাদেশ জুড়ে যেন এরকম situation আর কখনো না হয়। Thank you so much

আপনাকে।

জি, আরেকটা কথা বলতে চাই। ভবিষ্যতের জন্য এই

নিয়ে আমার

মেয়ের বা আমার পরিবারের প্রতি যেন আর কোন এরকম

ঘটনা না হয় বা আমাদের, আমাদের উপর যেন কোন বিপদ না আসে এই

ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

না সেটা নিয়ে আমরা তো অবশ্যই কাজ করব। আমাদের আমরা শুনেছি যে রুমি ভাই

বলে যে-

আমার তার প্রতি শ্রদ্ধা আছে। সেটা অবশ্যই।

হ্যাঁ সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব এবং আশা করি যে এটা থেকে খুবই easily আমরা বেরিয়ে

আসতে পারব। এটা কোন সমস্যাই হবে না এবং এটা খুবই easy একটা ব্যাপার। মানে আমাদের

ক্ষেত্রে এটাকে solution করা এবং আশা করি যে এটা ভালো কিছু একটা

result আপনি পাবেন।

ইনশাল্লাহ।

জি, ইনশাল্লাহ।

Thank you.

End of transcript · 1,287 words

iPhone app Translate videos on your iPhone Paste a TikTok, Instagram or X link, add subtitles in your language and save the video to Photos.

Read any video in your language

Paste a link from X, TikTok, YouTube or Instagram. You get a page like this one.