Analysis of Saudi Arabia's Legal Actions
যে দেশে পিতা-পুত্র মিলে সকাল-বিকাল ধর্ষণ করে একই
নারীকে। চালু করেছে শরিয়া বিরোধী পশ্চিমা বিভিন্ন
উদ্যোগ। দেওয়া হচ্ছে মদ, অ্যালকোহলের লাইসেন্স। সরকারি
পৃষ্ঠপোষকতায় করা হয় কোমর দুলিয়ে নাচ গানের মহোৎসব।
সেই দেশেই আলিঙ্গন করার অজুহাতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দুই
বাংলাদেশি নাগরিককে। বলছি মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চিমা মদদে
পরিচালিত রাষ্ট্র সৌদি আরবের কথা। শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে
রাষ্ট্রীয়ভাবে দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে পাপের সাম্রাজ্য
গড়া এই রাষ্ট্র। অথচ ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি বাংলাদেশ
সরকার। আর পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে
বুলি আওড়ানো হচ্ছে, "এটি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা।"
সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে
জড়িত ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম, আব্দুল বশির
এবং সুইটি আক্তার। কিন্তু ঠিক কী করেছিলেন এই দুই বাংলাদেশি?
আর যে অপরাধের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে,
ইসলামী শরিয়াতে তার শাস্তি কি? উত্তর খুঁজতে হলে আবেগ
নয়, দেখতে হবে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং ইসলামী আইনশাস্ত্র
কি বলছে।
প্রথমেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন, ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত ঘনিষ্ঠতা
আর মৃত্যুদণ্ডযোগ্য জিনা এক বিষয় নয়। সূরা
আল-ইসরার আয়াত নম্বর বত্রিশে আল্লাহ বলেছেন, "জিনার ধারে
কাছেও যেও না।" অর্থাৎ শুধু জিনা নয়, এর দিকে নিয়ে যেতে পারে
এমন আচরণ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। বিবাহ
বহির্ভূত চুমু বা আলিঙ্গনকে ইসলামে নিষিদ্ধ আচরণ হিসেবে
বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নিষিদ্ধ হলেই সেই কাজের শাস্তি
মৃত্যুদণ্ড, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই।
তাহলে জিনার শাস্তি কি? সূরা আন-নূরের দ্বিতীয় আয়াতে জিনার
জন্য একশ বেত্রাঘাতের বিধান এসেছে। আর সহিহ হাদিসের
ভিত্তিতে ধ্রুপদী ইসলামী ফিকহে বিবাহিত ব্যক্তির জিনার শাস্তি
পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এই শাস্তি
প্রয়োগের জন্য অপরাধের ধরণ, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এবং বিচারিক
শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। চুমু বা আলিঙ্গন
যৌন সঙ্গমের সমতুল্য নয়। ইসলামী আইনশাস্ত্রে এ
ধরনের আচরণের জন্য জিনার নির্ধারিত হদ্দ শাস্ত্রি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচারক তাযির
শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু তাযির মানেই যেকোনো অপরাধে
যেকোনো শাস্তি বৈধ, এমন নয়। পবিত্র মসজিদের ভেতরে এমন
কাজের জন্য বড়জোর সতর্কতামূলক শাস্তি বা কারাদণ্ড দেওয়া
যেত। কিন্তু ইসলামের দোহাই দিয়ে জীবন কেড়ে নেওয়া শরিয়ার মূল
চেতনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এবার ফিরে আসা যাক সৌদি আরবের ঘটনায়। রিয়াদের বুকে
আন্তর্জাতিক পপ তারকাদের কনসার্ট, বিশাল বিনোদন উৎসব,
নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে প্রকাশ্য সংগীত আয়োজন।
এসব এখন সৌদি আরবের সামাজিক রূপান্তরের অংশ। রাষ্ট্রীয়
বিনোদন উদ্যোগের আওতায় এসব আয়োজন হচ্ছে। প্রচারও করা হচ্ছে
জোরেসোরে।
অথচ শরিয়া আইনের কথা বললেও সেখানে প্রভাবশালীদের সাতক্ষণ
মাপ। দেশটিতে গৃহকর্মে যাওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশি নারী
বছরের পর বছর শিকার হচ্ছেন নির্মম শারীরিক ও যৌন
নির্যাতনের। এমনও ভয়ঙ্কর অভিযোগ রয়েছে যেখানে একই
বাড়ির পিতা-পুত্র মিলে অসহায় একই বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণ
করেছে। শরিয়া আদালতে সেসব প্রভাবশালী অপরাধীদের কোনো
বিচার করেনি সৌদি প্রশাসন।
এদিকে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের নাটক শুরু
করেছে ঢাকার প্রশাসন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাম্মা মোবায়েদ
দায়সারাভাবে এটিকে বড় শিক্ষা বলেছেন। ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি
রাষ্ট্রদূতকে ডেকে চা কফি খাইয়ে তলব করার একটা
আনুষ্ঠানিকতা দেখানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে একটা কাগজে নোট,
ভার্বাল বা কূটনৈতিক চিঠি। কিন্তু বাস্তবতা হলো যে রাষ্ট্র
ভিয়েনা কনভেনশনের ছত্রিশ নম্বর অনুচ্ছেদকে পায়ের তলায়
পিষিয়ে আমাদের কনস্যুলেটকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখলো। তারা
ঢাকার এই কাগজে চিঠির জবাব দেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করবে
কিনা সেটাই প্রশ্ন।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। লাখ লাখ
বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন।
কিন্তু সুসম্পর্কের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের নাগরিকের জীবন,
অধিকার কিংবা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বন্ধুত্বপূর্ণ
সম্পর্ক বজায় রেখেও ন্যায়বিচার দাবি করা যায়। বরং সেটাই
দায়িত্বশীল কূটনীতির পরিচয়। কারণ প্রবাসীরা শুধু রেমিটেন্স
পাঠানোর যন্ত্র নন, তারা এই দেশের নাগরিক। তাদেরও আছে পরিবার,
স্বপ্ন, মর্যাদা এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার।
End of transcript · 557 words